শেখ হাসিনা ‘স্ট্রং ক্লাইমেট ফাইটার’- পরিকল্পনামন্ত্রী

 ডেস্কঃ |  Saturday, October 16th, 2021 |  7:54 pm
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ।ফাইল ছবি।

 

 

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘স্ট্রং ক্লাইমেট ফাইটার’। বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে তার অবদান আমরা অস্বীকার করতে পারি না।

তিনি বলেন, আমাদের আওয়াজকে শক্তিশালী ও সোচ্চার করতে হবে। ন্যায়বিচারের চাওয়াকে অব্যাহত রাখতে হবে। সবার সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৬ উপলক্ষে শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটে জলবায়ু সুবিচার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক কারণ আছে। জলবায়ু আমাদের মা। আমরা সন্তানরা মাকে আদর করতে হবে। তাহলে মা তার সন্তানকে স্নেহ করবে। আমাদের দৈনন্দিন আচার-আচরণের মাধ্যমে আমরা মায়ের ক্ষতি করছি। জলবায়ু তার সুবিচার চায় এজন্য আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।

এদিন সন্ধ্যায় সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সিলেট-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কমনওয়েলথ উন্নয়ন অফিস, বাংলাদেশের পরিচালক জুডিথ হার্বার্টসন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আকমল শরীফ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাওর এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাওরে বছর বছর ফসলহানীর দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এড়িয়ে যেতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব রোধ করতে না পারলে হাওরের মানুষের জীবন মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরেক প্রশ্নে সাবিহা নামে এক ছাত্রী জানায়, গত ১৫ বছরে সিলেটে ১শটি টিলা কাটা হয়েছে। সিলেটে আর কোনো টিলা কাটা হবে না মর্মে অতিথিদের কাছে  প্রতিশ্রুতি চায়।

খাদেমুল রাশেদ ও হুমায়রার সঞ্চালনায় সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সমন্বয়ক সোহানুর রহমান। শুরুতে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু সুবিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের তরুণদের অভিপ্রায় তুলে ধরেন ইসলামিক রিলিফের প্রকল্প সমন্বয়কারী মঈন উদ্দিন আহমদ।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিরা বিভিন্ন প্র্রশ্নের উত্তর দেন। আনন্দ নিকেতন স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মুনতাহা রেজা পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে জানতে চায়, এভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকলে ৩০ বছর পর সে কী সুনামগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে থাকতে পারবে, নাকি একটি উঁচু ভূমির খুঁজে মাছের মতো সাঁতার কাটতে হবে?

উপস্থিত তরুণরা হাওরের জন্য জলবায়ু সুবিচার নিশ্চিত করতে নীতি-নির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।