হাটহাজারীতে সওজের জায়গায় নির্মিত হয়েছে অবৈধ স্থাপনা

 মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ,হাটহাজারী |  Saturday, October 16th, 2021 |  4:06 pm
ছবিঃপ্রতিনিধি

 

প্রথমে খোলামেলা ভাবে মাথার উপর ছাতা নিয়ে কেউ মাছ বিক্রি করছে, কেউ আবার বিক্রি করছে শাকসবজি, তাদের দেখা দেখিতে একের পরে এক বসছে মুরগির, মাংস ও কাপড়ের দোকান। যেন তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। এভাবে কিছুদিনের মধ্যেই জমে উঠেছে বাজার। তারপর ও যখন কোনো বাধা আসছে না তখন তারা লোহার রড ও সিমেন্টের তৈরি পিলার ও বাঁশ দিয়ে গড়েছেন অবৈধ স্থাপনা। চলছে দোকান বিক্রির পরিকল্পনা। প্রতিদিন দোকান প্রতি ২০ টাকা নিচ্ছে ইজারদার ও ১০ টাকা করে নিচ্ছে হকার্স লীগ।

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট এলাকায় মহাসড়ক সহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে এইসব অবৈধ স্থাপনা। এখানে চলছে ইঁদুর-বিড়ালের মতো জায়গা দখল ও উচ্ছেদের খেলা। একদিকে দখলমুক্তকরণে ঢাক ঢোল পিটিয়ে উচ্ছেদ করলেও, অন্যদিকে আবার দখল। উচ্ছেদের পরে দখলের কারণে বারবার অভিযান চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এতে করে সরকারের অর্থ খরচের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সময় এবং জনবল। অবৈধ দখল উচ্ছেদে সরকার যতটা উদ্যোগী ঠিক ততটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

 

২০১৯ সালের মার্চ মাসে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক সরকারহাট বাজারের মির্জাপুর মৌজা আরএস ১০০নং খতিয়ানের আরএস ৭৮০৯নং দাগের তৎসামিল বিএস ০৪নং খতিয়ানের ৬১৪৩ ও ৬১৪২নং দাগের আন্দরে ২একর সরকারি খাস জায়গায় অবৈধ স্থাপনা, মার্কেট ও কাঁচা বাজার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরেও সরকারহাট বাজার খাগড়াছড়ি-মহাসড়কের পাশে দখল প্রবণতা অব্যাহতও রয়েছে।

 

কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের পর ফের দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাজারে ব্যবসা করে আসছি, উচ্ছেদ অভিযানকালে দোকানপাট গুড়িয়ে দেওয়ার পর ইজারদার আমাদের বসার অনুমিত দিয়েছে তাই আমরা দৈনিক ইজারা আদায়ের মাধ্যমে আমাদের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া আমরা অসহায় মানুষ কোথায় যাবো? জীবিকার তাগিদে নিরুপায় হয়ে এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে মার্কেটে দোকান নিতাম।

 

ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, সওজের জায়গা হলেও উচ্ছেদ অভিযানকালে দোকানপাট গুড়িয়ে দেওয়ার পর জায়গাটি খালি পড়ে আছে তাই আমরা দখল করে নিয়েছি এতে অপরাধের কি আছে? সরকার যখন বলবে তখন আমরা উঠে যাবো। এছাড়া স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মার্কেট নির্মাণের দাবিও জানান তারা।

 

এদিকে নাজিম উদ্দীন নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সওজের জায়গা দখল করে শতাধিক দোকান বসানোর অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আমি জানিনা, এই বাজারে আমার কোন দোকান নাই, আমি যেই দোকানে বসি সেই দোকানে আমার শেয়ার আছে, তাও সেটি দোকান নই বরং গলির মধ্যে বসে ব্যবসা করছি। নাজিম একজন ক্ষমতাসীন দল যুবলীগের কর্মী বলেও জানা গেছে। তবে কার ছত্রছায়ায় সওজের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে বাজারটি বসছে এই বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

 

সওজের জায়গায় বাজার বসিয়ে ইজারা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারদার ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি আবু তৈয়ব বলেন, সওজের জায়গায় বাজার বসানোর অনুমিত দেওয়ার আমি কেউনা, আর অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করার পক্ষেও আমি নাই, আমি ইজারদার হিসেবে সড়ক ও ফুটপাত ছাড়া যেখানেই বসুক না কেন আমি এই যারা আদায় করব। আমি প্রতিদিন সরকার হাট বাজারে যেতে পারি না বিদায় আবুল কালাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিকে ইজারা আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছি সে প্রতিদিন ২০ টাকা করে ইজারা আদায় করে।

 

একদিকে প্রশাসন উচ্ছেদের প্রাণান্তকর চেষ্টা করলেও অন্যদিকে অবৈধ দখলদারিত্বের বিষয়ে জানতে চাইলেই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহসান মোস্তফা বলেন, দেশব্যাপী সওজের জায়গা ও সরকারি খাস জায়গায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এই মুহূর্তে যে ব্যক্তি সওজের জায়গা দখল করে দোকানপাট ও বাজার বসিয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং যেকোনো মুহূর্তে এই দখল উচ্ছেদ করা হবে।