মহররম মাস যে কারণে সম্মানিত

  |  Friday, August 13th, 2021 |  12:35 pm
মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। আরবি মহররম শব্দের অর্থ সম্মানিত বা মর্যাদাবান। মহররম একটি সম্মানিত মাস। এ মাসের আছে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য। আছে আলাদা সম্মান ও মর্যাদা। এটি ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচিত। জাহেলি যুগেও আরবরা এ মাসকে বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখত। নিষিদ্ধ মাস : মহররম মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিষিদ্ধ মাস। এ মাসে আরবরা কোনো ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ করত না। তারা এ মাসে রক্তপাত থেকে বিরত থাকত। নিষিদ্ধ মাস মোট চারটি। এর মধ্যে মহররম অন্যতম। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময় থেকেই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসের সম্মান নষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার কোরো না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৬) আল্লাহর মাস : হাদিসে মহররম মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৪৭) শ্রেষ্ঠ মাস : ইবনে রজব (রহ.) বলেন, হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, মহররম শ্রেষ্ঠ মাস। কারণ আল্লাহ তাআলা হারাম (সম্মানিত) মাস দিয়ে বছর শুরু করেছেন এবং হারাম (সম্মানিত) দিয়ে বছর শেষ করেছেন। এর মধ্যে হাদিসে মহররম মাসকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। আর রমজানের পর মহররম মাস শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। আবু জর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে রাতের শ্রেষ্ঠ অংশ এবং শ্রেষ্ঠ মাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, ‘রাতের শেষ ভাগ শ্রেষ্ঠ এবং মাসের মধ্যে মহররম মাস শ্রেষ্ঠ।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪৬১২) আশুরার মাস : মহররম মাসের দশম তারিখ আশুরার দিন। এই দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরত প্রকাশ করেছেন। এই দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এবং ফেরাউন ও তার অনুসারীদের ধ্বংস করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.), রাসুল (সা.) হিজরত করে মদিনায় এলেন এবং তিনি মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখেন। তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে ডুবিয়ে মেরেছেন। সেই স্মৃতির স্মরণে আমরা রোজা রাখি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমরা তোমাদের চেয়েও মুসা (আ.)-এর বেশি নিকটবর্তী। এরপর তিনি এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৪৮) নিঃসন্দেহে আশুরার দিনের ফলিজত ও মর্যাদা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরার দিন রোজার বিধানও হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। এই দিন অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। আল্লাহর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ হয় এই দিনে। তবে আশুরার দিনের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী বর্ণনা করে থাকে। এদিন ইবরাহিম (আ.) আগুন থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। ইউসুফ (আ.) জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ইয়াকুব (আ.) চোখের জ্যোতি ফিরে পেয়েছেন। ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন। ইদদিস (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়। অনেকে বলে, এদিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এইসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। (তরাতিবুল মাওজুআত লিইবনিল জাওজি, পৃ. ৫৮৫) একটি ভুলের নিরসন : আশুরার দিনের মর্যাদা ও ঐতিহ্য ইসলামপূর্ব যুগ থেকে চলে আসছে। ইসলাম এই মর্যাদা ও ঐতিহ্য আরো প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু অনেকে আশুরার দিন বলতে কারবালার প্রান্তরে নবীজি (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারে মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনা বুঝে থাকে। অনেকের ধারণা, কারবালার ঘটনার কারণে আশুরার দিনের এত মর্যাদা ও ফজিলত। আসলে বিষয়টি ওই ধরনের নয়। সুদূর অতীত থেকেই আশুরার দিনের ফজিলত স্বীকৃত। আশুরার দিনে কারবালার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি কাকতালীয়।

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। আরবি মহররম শব্দের অর্থ সম্মানিত বা মর্যাদাবান। মহররম একটি সম্মানিত মাস। এ মাসের আছে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য। আছে আলাদা সম্মান ও মর্যাদা। এটি ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচিত। জাহেলি যুগেও আরবরা এ মাসকে বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখত।

নিষিদ্ধ মাস : মহররম মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিষিদ্ধ মাস। এ মাসে আরবরা কোনো ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ করত না। তারা এ মাসে রক্তপাত থেকে বিরত থাকত। নিষিদ্ধ মাস মোট চারটি। এর মধ্যে মহররম অন্যতম। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময় থেকেই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসের সম্মান নষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার কোরো না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৬)

আল্লাহর মাস : হাদিসে মহররম মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৪৭)

শ্রেষ্ঠ মাস : ইবনে রজব (রহ.) বলেন, হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, মহররম শ্রেষ্ঠ মাস। কারণ আল্লাহ তাআলা হারাম (সম্মানিত) মাস দিয়ে বছর শুরু করেছেন এবং হারাম (সম্মানিত) দিয়ে বছর শেষ করেছেন। এর মধ্যে হাদিসে মহররম মাসকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। আর রমজানের পর মহররম মাস শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। আবু জর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে রাতের শ্রেষ্ঠ অংশ এবং শ্রেষ্ঠ মাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, ‘রাতের শেষ ভাগ শ্রেষ্ঠ এবং মাসের মধ্যে মহররম মাস শ্রেষ্ঠ।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪৬১২)

আশুরার মাস : মহররম মাসের দশম তারিখ আশুরার দিন। এই দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরত প্রকাশ করেছেন। এই দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এবং ফেরাউন ও তার অনুসারীদের ধ্বংস করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.), রাসুল (সা.) হিজরত করে মদিনায় এলেন এবং তিনি মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিন রোজা রাখতে দেখেন। তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে ডুবিয়ে মেরেছেন। সেই স্মৃতির স্মরণে আমরা রোজা রাখি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমরা তোমাদের চেয়েও মুসা (আ.)-এর বেশি নিকটবর্তী। এরপর তিনি এই দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৪৮)

নিঃসন্দেহে আশুরার দিনের ফলিজত ও মর্যাদা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরার দিন রোজার বিধানও হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। এই দিন অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। আল্লাহর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ হয় এই দিনে। তবে আশুরার দিনের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী বর্ণনা করে থাকে। এদিন ইবরাহিম (আ.) আগুন থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। ইউসুফ (আ.) জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ইয়াকুব (আ.) চোখের জ্যোতি ফিরে পেয়েছেন। ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন। ইদদিস (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়। অনেকে বলে, এদিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এইসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। (তরাতিবুল মাওজুআত লিইবনিল জাওজি, পৃ. ৫৮৫)

একটি ভুলের নিরসন : আশুরার দিনের মর্যাদা ও ঐতিহ্য ইসলামপূর্ব যুগ থেকে চলে আসছে। ইসলাম এই মর্যাদা ও ঐতিহ্য আরো প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু অনেকে আশুরার দিন বলতে কারবালার প্রান্তরে নবীজি (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারে মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনা বুঝে থাকে। অনেকের ধারণা, কারবালার ঘটনার কারণে আশুরার দিনের এত মর্যাদা ও ফজিলত। আসলে বিষয়টি ওই ধরনের নয়। সুদূর অতীত থেকেই আশুরার দিনের ফজিলত স্বীকৃত। আশুরার দিনে কারবালার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি কাকতালীয়।